ল্যাপারোস্কোপি

ল্যাপারোস্কোপি কী?

যে অপারেশনে পেটে ছোট ছিদ্র করে টেলিস্কোপ নামে একটা যন্ত্র পেটের ভেতর ঢুকিয়ে তার সঙ্গে ক্যামেরা সংযোগ করে পেটের ভেতরটা বড় করে দেখে ও অপারেশন সুবিধার জন্য আরো দু-তিনটি ছিদ্র করে অপারেশন করা হয়। যেহেতু ছোট ছিদ্র্রের সাহায্যে করা হয়, অনেকে মনে করেন এই অপারেশনে অনেক কিছু থেকে যেতে পারে। যেহেতু ক্যামেরার ম্যাগনিফিকেশন থাকে। সাধারণ চোখে যা দেখা হয় তার চেয়ে ভেতর বড় করে দেখা হয়। অতএব অপারেশন পেট কেটে করলে যতখানি ভালো করা যায়, ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমেও ততটা ভালো করা যায়।

স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় এখন অনেক বেশি ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে সার্জারি করা হয়। জরায়ু ও এর আশপাশের সার্জারি, যেমন হিস্টেরেকটমি, টিউমার, সিস্ট অপসারণ ইত্যাদি ল্যাপারোস্কোপির সাহায্যে ভালো হয়। পেট কেটে অপারেশন করলে কিছু জটিলতা হয়, শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়-বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। পেট কেটে অপারেশনের পর বহু মেয়ে আর গর্ভধারণ করতে পারে না। এসব ঝুঁকি ল্যাপারোস্কোপিতে অনেক কম। কিছু জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন একটোপিক প্রেগন্যান্সিতে দ্রুত অপারেশন না করলে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে-ল্যাপারোস্কোপি অপারেশন ছাড়া সফল হওয়া কঠিন। এমনকি বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায়ও এখন ল্যাপারোস্কোপির সফল প্রয়োগ হচ্ছে।

পিত্তথলি বা গলব্লাডারের পাথর একটি জটিল ও প্রচলিত সমস্যা। বাংলাদেশ, ভারত এসব অঞ্চলে এ সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়। গলব্লাডারের পাথর বেশি দেখা যায় মেয়েদের মধ্যে। প্রতি তিনজন রোগীর মধ্যে দুজনেই হয়তো মেয়ে। ৬৬ ভাগ মেয়েদের হয়। আমরা মেডিকেল কলেজে যারা পড়াশোনা করেছি তারা জানি, ফাইভ এফ ফেক্টর বলে একটি বিষয় আছে। ফ্যাটি (স্থূল), ফরটি (৪০ বছর), ফারাটাইল (প্রজননক্ষম), ফেয়ার (ফর্সা)—এ ধরনের নারী যারা, ৪০ বয়সের মধ্যে—এদের বেশি হয়। এ ধরনের নারীদের এই রোগটি বেশি হয়।

আবার প্রতি তিনজন পিত্তথলির সমস্যা জনিতদের মধ্যে একজন পুরুষ থাকে। পিত্তথলির সমস্যায় আমরা অধিকাংশ দেখি পাথরজনিত। এ ছাড়া পিত্তথলিতে টিউমার, পলিপ, ক্যানসার—এগুলো হতে পারে; টিউবার কলোসিস হতে পারে। সাধারণত এসব সমস্যাই পিত্তথলিতে হয়।