জ্বর, সর্দি, কাশি হলে ৩৩৩ বা ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে সেবা নিন    আইইডিসিআর হটলাইন নাম্বার: ১০৬৫৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২    করোনাভাইরাস নিয়ে আপডেট জানতে ক্লিক করুন www.corona.gov.bd

মাইক্রোবায়োলজি

আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন- পুচকে ব্যাকটেরিয়াগুলো, বিশালদেহী মানুষ, প্রানী কিংবা বড় বড় উদ্ভিদগুলোকে খেয়ে ফেলতে পারে?

যদি সত্যিই খেয়ে ফেলে, তাহলে এর পিছনে অবশ্যই একটা রহস্য আছে। আর এর রহস্যটাই হল মাইক্রোবায়োলজি বা অনুজীববিজ্ঞান।

 

মাইক্রোবায়োলজি বা অনুজীববিজ্ঞান হল বিজ্ঞানের এমনই একটি শাখা, যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, ছত্রাক ইত্যাদি) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
প্রকৃতিতে তাদের বিস্তৃতি, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, অন্য প্রানীদের সাথে সম্পর্ক, মানুষ প্রানী এবং উদ্ভিদের উপর তাদের প্রভাব, পরিবেশে ভৌত ও রাসায়নিক এজেন্টদের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া- ইত্যাদি সবকিছু জানার নামই হল মাইক্রোবায়োলজি বা অনুীববিজ্ঞান।

মুলত অনুজীব থেকে ভ্যাক্সিন ও অ্যান্টিবায়োটিক, প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন এনজাইম তৈরীর পদ্ধতি জানা,আবার কোন্ সংক্রামক রোগ কোন্ জীবাণুর আক্রমনে হয়, কিভাবে এরা জীবদেহে রোগ সৃষ্টি করে, কিভাবে এরা মৃতদেহ পচিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে,এরা কিভাবে খাবারে পচন ধরায় বা খাবার নষ্ট করে, এবং কোন খাবারকে কিভাবে জীবাণুর আক্রমন থেকে রক্ষা করা হয় এসব কিছু জানার নামই হল অনুজীববিজ্ঞান।

 

মাইক্রোবায়োলজির গুরুত্বঃ

 

এন্টিবায়োটিক তৈরী হয় বিভিন্ন ছত্রাক থেকে। যেমন- pennicillium notatum থেকে penicillin, cephalosporium থেকে cephalosporin প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া পলিমিক্সিন, সাবটিলিন প্রভৃতি এন্টিবায়োটিকগুলোও বিভিন্ন ছত্রাক থেকে প্রস্তুত করা হয়।

 

কলেরা, টায়ফয়েড, যক্ষা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক বা ভ্যাক্সিন প্রস্তুত করা হয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া থেকে। যেমন corynebacterium, bordetolla, clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রস্তুত করা হয় DPT এর (ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার) প্রতিষেধক বা ভ্যাক্সিন।

 

বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া থেকে বিভিন্ন এনজাইম প্রস্তুত করা হয়। যেমন-
Bacillus spp থেকে protease, lipase প্রভৃতি প্রস্তুত করা হয় যা ডিটারজেন্ট তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। lactobacillus থেকে lactase, যা candy তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
এভাবে বিভিন্ন অনুজীব থেকে বিভিন্ন এনজাইম প্রস্তুত করা হয়, যা বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রিতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করে।

 

বিভিন্ন জৈব এসিড যেমন সাইট্রিক এসিড, অক্সালিক এসিড, ফিউমারিক এসিড প্রভৃতি তৈরীতে এবং griseofulvin নামক ওষুধ তৈরীতে pennicillium (ছত্রাক) এর ভুমিকাই মুখ্য।

 

Agaricus bisporus (মাশরুম) প্রচুর ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায়, এটা মানুষের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এটাতে শর্করা কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। শুধু তাই নয়, এরা প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন তৈরীতে সহায়তা করে।

 

Anticancer drug “TAXOL” প্রস্তুত করা হয় taxomyces থেকে।